বার্তা সংস্থ আবনা : মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, মিশর আমেরিকার মিত্র দেশ নয়; শত্রু দেশও নয়। আমেরিকায় ইসলাম-বিরোধী একটি চলচ্চিত্র তৈরির বিরুদ্ধে মিশরের রাজধানী কায়রোসহ বিভিন্ন শহরে যখন মার্কিন-বিরোধী প্রচণ্ড বিক্ষোভ হচ্ছে তখন তিনি এ মন্তব্য করলেন।
গতকাল (বুধবার) ওবামা বলেছেন, “আমি মনে করি না যে, তাদেরকে বন্ধু হিসেবে বিবেচনা করা উচিত আবার শত্রু হিসেবে ভাবাও ঠিক হবে না।”
ওবামা আরো বলেন, “আমি মনে করি তারা কিভাবে এ ঘটনায় প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে তা দেখা উচিত। তবে, এ অবস্থায় অবশ্যই আমরা আশা করব যে, তারা ধৈর্যের পরিচয় দেবে এবং আমাদের দূতাবাস ও সেখানকার কর্মীরা নিরাপদ থাকবে। এবং তারা যদি কোনো অ্যাকশনে যায় যার ইঙ্গিত আমরা পাচ্ছি যে তারা কোনো দায়-দায়িত্ব নেবে না; তাহলে বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হবে।” তবে কি ধরনের সমস্যা তৈরি হবে কিংবা বড় ধরনের সমস্যা বলতে তিনি কি বুঝিয়েছেন তার কোনো ব্যাখ্যা দেননি ওবামা।
গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, মুসলিম বিশ্বে মার্কিন-বিরোধী মনোভাব তৈরি হওয়ায় প্রেসিডেন্ট ওবামা ও তার প্রশাসন চিন্তিত ও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। এ ছাড়া, মিশরে প্রথমবারের মতো গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ড. মুহাম্মাদ মুরসিও ইসলাম-বিরোধী ওই চলচ্চিত্রের নিন্দা করেছেন।
এ চলচ্চিত্র তৈরির প্রতিবাদে মিশরের রাজধানী কায়রোর মার্কিন দূতাবাসে হামলা করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা এবং সেখানকার পতাকা টেনে নামিয়ে একটি কালেমা খচিত পাতাকা উড়িয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা। এ ছাড়া, লিবিয়ার বেনগাজি শহরে মার্কিন কনস্যুলেটে হামলায় মার্কিন রাষ্ট্রদূতসহ চারজন নিহত হয়েছে। ইরানসহ বিশ্বের অন্য বহু দেশও এ চলচ্চিত্রের বিরুদ্ধে নিন্দা জানিয়েছে এবং বিক্ষোভ-মিছিল হচ্ছে। আমেরিকা প্রবাসী এক মিশরীয় কপ্টিক খ্রিস্টান ওই সিনেমা তৈরি করেছে বলে খবর বের হয়েছে।#
(সূত্র : রেডিও তেহরান)